তোমরা যারা মোবাইলে হার্ডকোর গেমিং পছন্দ করো, তাদের কাছে iQOO নামটা নিশ্চয়ই নতুন নয়। কম বাজেটে ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের পারফরম্যান্স দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্র্যান্ডটির জুড়ি মেলা ভার। এবার তারা স্মার্টফোন মার্কেটে এমন এক ফোন আনতে যাচ্ছে, যা সাধারণ ইউজার থেকে শুরু করে প্রো-গেমার , সবারই চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো। কথা বলছি নতুন iQOO Neo 12 নিয়ে।
ফোনটিতে দেওয়া হয়েছে ৯,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং ১৮৫ হার্জ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে। চলো দেখে নিই ফোনটি কবে আসছে, বাংলাদেশে এর দাম কত হতে পারে এবং ভেতরে কী কী চমক থাকছে।
কোন দেশে প্রথম লঞ্চ হচ্ছে এবং কবে?
অনেকেই হয়তো ভাবছ ফোনটি বাজারে চলে এসেছে কি না। আসলে iQOO Neo 12 এখনো লঞ্চ হয়নি, তবে আগামী ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চীনে সর্বপ্রথম অফিশিয়ালি লঞ্চ হতে যাচ্ছে। চীনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় এর লঞ্চ ইভেন্ট শুরু হবে এবং সেদিন থেকেই সেখানে বিক্রি শুরু হবে।
চীনের বাইরে ভারত বা অন্যান্য গ্লোবাল মার্কেটে ফোনটি হয়তো সরাসরি এই নামে না এসে iQOO 16R নামে রিব্র্যান্ড হয়ে আসতে পারে।
বাংলাদেশে কি লঞ্চ হয়েছে? দাম কত হতে পারে? (iQOO Neo 12 Price in Bangladesh)
সোজা উত্তর হলো, বাংলাদেশে ফোনটি এখনো লঞ্চ হয়নি। যেহেতু বাংলাদেশে iQOO-এর কোনো অফিশিয়াল শোরুম নেই, তাই ফোনটি অফিশিয়ালি আসার সম্ভাবনাও খুব কম। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই! ২৮ অক্টোবর চীনে রিলিজ হওয়ার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই (নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে) দেশের জনপ্রিয় আনঅফিশিয়াল শপগুলোতে তোমরা ফোনটি পেয়ে যাবে। তবে আনঅফিশিয়াল ফোন কেনার ক্ষেত্রে কিছুটা সচেতন থাকাই উত্তম।
সম্ভাব্য দাম: চীনে ফোনটির অফিশিয়াল দাম লঞ্চের দিন জানানো হবে। তবে এর শক্তিশালী হার্ডওয়্যার ও মার্কেট ট্রেন্ড হিসাব করলে দেখা যায়:
চায়না ও গ্লোবাল প্রাইস: চীনে এর বেস ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৩,২৯৯ থেকে ৩,৫৯৯ ইউয়ান (ভারতীয় বাজারে প্রায় ৪৯,৯৯০ থেকে ৫২,৯৯০ রুপি) হতে পারে।
বাংলাদেশে সম্ভাব্য দাম: বাংলাদেশে আনঅফিশিয়ালি আসার পর iQOO Neo 12-এর দাম ৫৮,০০০ টাকা থেকে ৬৫,০০০ টাকার আশেপাশে থাকবে (১২ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট)। শুরুর দিকে চাহিদা বেশি থাকায় দাম কিছুটা চড়া থাকতে পারে, যা কয়েক সপ্তাহ পর কমে আসবে।
Advertisement
কেন এই ফোনটি এত আলোচনায়? বিস্তারিত রিভিউ
তোমরা যদি এই বাজেটে একটি নতুন ফোন কেনার চিন্তাভাবনা করো, তবে এর ফিচারগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার।
১. ৯,০০০mAh ব্যাটারি: পাওয়ার ব্যাংক এখন পকেটে!
ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর 9,000mAh Blue Ocean ব্যাটারি। সাধারণত এত বড় ব্যাটারি দিলে ফোন ইটের মতো মোটা ও ভারী হয়ে যায়। কিন্তু iQOO এখানে পঞ্চম প্রজন্মের সিলিকন-অ্যানোড টেকনোলজি ব্যবহার করেছে, যার ফলে ফোনটি স্লিম রেখেই এত বিশাল ব্যাটারি বসানো সম্ভব হয়েছে। তোমরা যারা একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাবজি, ফ্রি ফায়ার বা জেনশিন ইমপ্যাক্ট খেলো, তারাও এক চার্জে অনায়াসে দেড় থেকে দুই দিন পার করে দিতে পারবে। আর চার্জ শেষ হয়ে গেলে বক্সে থাকা 100W ফাস্ট চার্জার দিয়ে খুব অল্প সময়েই আবার ফুল চার্জ করে নেওয়া যাবে।
২. বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যান ও ডুয়াল চিপসেট
পারফরম্যান্সের জন্য এতে থাকছে কোয়ালকমের লেটেস্ট ফ্ল্যাগশিপ প্রসেসর Snapdragon 8 Elite Gen 5। এর সাথে গ্রাফিক্স ও ফ্রেম রেট স্থিতিশীল রাখতে যোগ করা হয়েছে iQOO-এর নিজস্ব Q3 গেমিং চিপ।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, হেভি গেমিংয়ের সময় ফোন যাতে গরম হয়ে ল্যাগ না করে (Thermal Throttling), সেজন্য এর ভেতরে Ice-Dome কুলিং সিস্টেম এবং সরাসরি একটি বিল্ট-ইন মেকানিক্যাল কুলিং ফ্যান দেওয়া হয়েছে। মানে আলাদা করে ফোনের পেছনে কুলার লাগানোর ঝামেলা থাকছে না।
৩. 2K 185Hz ডিসপ্লে: মাখনের মতো স্মুথ
সাধারণ ফ্ল্যাগশিপ ফোনে আমরা ১২০ বা ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেট দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু iQOO Neo 12-এ দেওয়া হয়েছে 185Hz রিফ্রেশ রেটের 2K ডিসপ্লে। এতে Visionox-এর নতুন pTSF OLED ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনের সর্বোচ্চ ব্রাইটনেস ২,২০০ নিটস, আর রাতে অন্ধকারে চোখের আরামের জন্য ব্রাইটনেস ১ নিট পর্যন্ত কমানো যাবে। এছাড়া ফ্ল্যাগশিপ iQOO 16-এর মতো এতেও 5000Hz ইনস্ট্যান্ট টাচ স্যাম্পলিং রেট থাকছে, যা গেমে গুলি করার সাথে সাথে রেসপন্স দেবে।
৪. ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
ফোনটির পেছনে রয়েছে চারকোনা ক্যামেরা মডিউল এবং চারপাশে মজবুত মেটাল ফ্রেম। চায়না একাডেমি অব আর্ট-এর সাথে যৌথভাবে তারা Zhengfeng নামের একটি বিশেষ কালার ভ্যারিয়েন্ট তৈরি করেছে। এই কালারটির বিশেষত্ব হলো, আলোর বিপরীতে ফোনটি নাড়াচাড়া করলে এর ব্যাক প্যানেলে আলোর ঢেউয়ের মতো একটি ইফেক্ট দেখা যায়। এছাড়া ধুলোবালি ও পানির ঝাপটা থেকে বাঁচাতে এতে IP68 রেটিং থাকার কথা রয়েছে।
৫. ক্যামেরা কেমন হবে?
সত্যি বলতে, iQOO-এর নিও সিরিজ মূলত তৈরি করা হয় গেমার এবং পারফরম্যান্স লাভারদের জন্য। তাই এতে খুব আহামরি ক্যামেরা সেটআপ থাকছে না। পেছনে থাকছে ৫০ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা (OIS সহ) এবং সাথে একটি ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স। দিনের আলোতে এবং রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার মতো বেশ ভালো ছবি ও 4K ভিডিও তোমরা এটি দিয়ে করতে পারবে। তবে তোমরা যদি শুধুমাত্র ক্যামেরা বা ডিএসএলআর লেভেলের পোর্ট্রেট তোলার জন্য ফোন খুঁজতে চাও, তবে এটি তোমার জন্য প্রথম পছন্দ নাও হতে পারে।
তোমার কি ফোনটি কেনা উচিত?
যদি তোমার বাজেট ৬০ হাজার টাকার আশেপাশে হয় এবং তোমার মূল উদ্দেশ্য থাকে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, ইস্পোর্টস গেমিং, কিংবা এমন একটি ফোন কেনা যা আগামী ৩-৪ বছর কোনো ল্যাগ ছাড়াই চলবে এবং চার্জ নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না—তাহলে iQOO Neo 12 চোখ বন্ধ করে সেরা অপশন হতে যাচ্ছে। ২৮ অক্টোবর লঞ্চ হওয়ার পর এর ক্যামেরা ও কুলিং ফ্যানের রিয়েল-লাইফ পারফরম্যান্স কেমন হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।
তবে তোমার যদি ধৈয্য কম থাকে তবে মার্কেটে অলরেডি এইমাসে লিস্ট হওয়া ফোন গুলো দেখতে পারো।
Discussion (0)
No comments yet. Start the conversation!